London ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
দুর্গাপুরে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারি দম্পতি আটক গণভোট সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে মোহাম্মদ আলম হোসেন, জেলা প্রশাসক, গাজীপুর নেত্রকোণায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুদন্ড রাঙ্গামা‌টি দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীত উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার জন্য মানববন্ধন কলমাকান্দায় ইউএনওকে শাসানো ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর বরখাস্ত কসবা–আখাউড়া আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে আশার প্রতীক জহিরুল হক চৌধূরী রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্সের নির্বাচন স্থগিত রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের নামে সিরাজগঞ্জে মামলা

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জোর করে দরিদ্র কৃষকদের জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের নামে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার চর নূরনগর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কামারখন্দ আমলি আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীসহ কামারখন্দ উপজেলার অর্ধশতাধিক কৃষক ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে উদয়কৃষ্ণপুর মৌজার প্রায় ৯৭ বিঘা জমিতে শর্ষের আবাদ করেছিলেন। এ অবস্থায় কবির আনোয়ারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতার দাপটে এসব জমির ফসল নষ্ট করে ফুলজোড় নদের উত্তোলিত বালু রাখার ষড়যন্ত্র করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ কাজ শুরু হলে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক কৃষক। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি ওই জমিতে মাটি ভরাট না করার জন্য আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে তাঁরা ১৪ জানুয়ারি আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, ধারালো ছুরি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে ওই জমিতে ঢুকে চারটি এক্সকাভেটর দিয়ে পাকা শর্ষে নষ্ট করেন এবং মাঝখানে বালু রাখার জন্য জায়গা রেখে চারদিকে মাটির বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে কৃষকদের প্রায় ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার শর্ষে নষ্ট হয়ে যায়। মাটি কেটে কেটে চারদিকে বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্ষতি হয় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। সব মিলে ৭১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়।

বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখানোসহ এ বিষয়ে মামলা না করার জন্য হুমকিও দেন। এসব কারণে তখন মামলা করতে সাহস পাননি তাঁরা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামারখন্দ আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৩:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪
১০৭
Translate »

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের নামে সিরাজগঞ্জে মামলা

আপডেট : ০৩:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জোর করে দরিদ্র কৃষকদের জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের নামে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার চর নূরনগর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কামারখন্দ আমলি আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীসহ কামারখন্দ উপজেলার অর্ধশতাধিক কৃষক ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে উদয়কৃষ্ণপুর মৌজার প্রায় ৯৭ বিঘা জমিতে শর্ষের আবাদ করেছিলেন। এ অবস্থায় কবির আনোয়ারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতার দাপটে এসব জমির ফসল নষ্ট করে ফুলজোড় নদের উত্তোলিত বালু রাখার ষড়যন্ত্র করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ কাজ শুরু হলে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক কৃষক। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি ওই জমিতে মাটি ভরাট না করার জন্য আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে তাঁরা ১৪ জানুয়ারি আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, ধারালো ছুরি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে ওই জমিতে ঢুকে চারটি এক্সকাভেটর দিয়ে পাকা শর্ষে নষ্ট করেন এবং মাঝখানে বালু রাখার জন্য জায়গা রেখে চারদিকে মাটির বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে কৃষকদের প্রায় ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার শর্ষে নষ্ট হয়ে যায়। মাটি কেটে কেটে চারদিকে বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্ষতি হয় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। সব মিলে ৭১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়।

বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখানোসহ এ বিষয়ে মামলা না করার জন্য হুমকিও দেন। এসব কারণে তখন মামলা করতে সাহস পাননি তাঁরা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামারখন্দ আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।