London ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

টুপি ছাড়া কি নামাজ হবে?

অনলাইন ডেস্ক

টুপি পরিধান করা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে টুপি পরেছেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন এবং পরবর্তীসময়ে সব যুগে মুসলমানদের মধ্যে টুপি পরার আমলের ধারাবাহিকতা চলে আসছে।

হাসান বিন মেহরান থেকে বর্ণিত, একজন সাহাবি বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে তার দস্তরখানে খেয়েছি এবং তার মাথায় সাদা টুপি দেখেছি। (আল ইসাবা: ৪/৩৩৯)

সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ বলেন, আমি প্রথম সারির মুহাজিরগণকে দেখেছি তারা সুতির পাগড়ি পরিধান করতেন। কালো, সাদা, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের। তারা পাগড়ির কাপড় মাথায় রেখে তার উপর টুপি রাখতেন। অতপর তার উপর পাগড়ি ঘুরিয়ে পরতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১২/৫৪৫)

নামাজ আদায়ের সময়ও টুপি পরিধান করা সুন্নত। তবে এটা ওয়াজিব বা অপরিহার্য নয়। টুপি ছাড়া নামাজ আদায় করলেও নামাজ হয়ে যাবে। কিন্তু নিছক অলসতার কারণে খালি মাথায় নামাজ আদায় করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।

নামাজের সময় মাথা থেকে টুপি পরে গেলে কী করবো?

নামাজের মধ্যে মাথা থেকে টুপি পরে গেলে যদি এক হাত দিয়ে তা উঠিয়ে পরে নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে টুপি উঠিয়ে পরে নেওয়াই উত্তম। আর যদি দুই হাত ব্যবহার করা ছাড়া ওঠানো সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে টুপি না ওঠানোই উচিত।

কারণ টুপি ওঠাতে গিয়ে ‘আমলে কাসির’ বা বেশি কাজ হয়ে গেলে নামাজ ভেঙে যেতে পারে। ফুকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় ‘আমলে কাসির’ বলা হয়, নামাজে এমন নড়াচড়া বা কাজকে যে নড়াচড়া বা কাজের কারণে তাকে দেখে নামাজরত নয় বলে ধারণা হয়। নামাজে ‘আমলে কাসির’ করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

নামাজরত অবস্থায় মাথা থেকে টুপি পরে যাওয়ার পর টুপি ওঠানোর জন্য কেউ যদি আমলে কাসির করে অর্থাৎ সময় নিয়ে দুই হাত এমনভাবে ব্যবহার করে টুপি পরিধান করে যে তাকে দেখে মনে হয় সে নামাজ পড়ছে না, তাহলে তার নামাজ ভেঙে যাবে। তাই টুপি ওঠানোর জন্য যেন আমলে কারিস না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দাঁড়ানো বা রুকু অবস্থায় মাথা থেকে টুপি পরে গেলে তা ওঠানোর চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেহেতু এ অবস্থায় আমলে কাসির না করে টুপি ওঠানো অসম্ভব। সিজদা বা বৈঠকের সময় টুপি পরে গেলে এক হাত দিয়ে উঠিয়ে পড়ে নেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৬:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫
১০০
Translate »

টুপি ছাড়া কি নামাজ হবে?

আপডেট : ০৬:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

টুপি পরিধান করা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে টুপি পরেছেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন এবং পরবর্তীসময়ে সব যুগে মুসলমানদের মধ্যে টুপি পরার আমলের ধারাবাহিকতা চলে আসছে।

হাসান বিন মেহরান থেকে বর্ণিত, একজন সাহাবি বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে তার দস্তরখানে খেয়েছি এবং তার মাথায় সাদা টুপি দেখেছি। (আল ইসাবা: ৪/৩৩৯)

সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ বলেন, আমি প্রথম সারির মুহাজিরগণকে দেখেছি তারা সুতির পাগড়ি পরিধান করতেন। কালো, সাদা, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের। তারা পাগড়ির কাপড় মাথায় রেখে তার উপর টুপি রাখতেন। অতপর তার উপর পাগড়ি ঘুরিয়ে পরতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১২/৫৪৫)

নামাজ আদায়ের সময়ও টুপি পরিধান করা সুন্নত। তবে এটা ওয়াজিব বা অপরিহার্য নয়। টুপি ছাড়া নামাজ আদায় করলেও নামাজ হয়ে যাবে। কিন্তু নিছক অলসতার কারণে খালি মাথায় নামাজ আদায় করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।

নামাজের সময় মাথা থেকে টুপি পরে গেলে কী করবো?

নামাজের মধ্যে মাথা থেকে টুপি পরে গেলে যদি এক হাত দিয়ে তা উঠিয়ে পরে নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে টুপি উঠিয়ে পরে নেওয়াই উত্তম। আর যদি দুই হাত ব্যবহার করা ছাড়া ওঠানো সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে টুপি না ওঠানোই উচিত।

কারণ টুপি ওঠাতে গিয়ে ‘আমলে কাসির’ বা বেশি কাজ হয়ে গেলে নামাজ ভেঙে যেতে পারে। ফুকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় ‘আমলে কাসির’ বলা হয়, নামাজে এমন নড়াচড়া বা কাজকে যে নড়াচড়া বা কাজের কারণে তাকে দেখে নামাজরত নয় বলে ধারণা হয়। নামাজে ‘আমলে কাসির’ করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

নামাজরত অবস্থায় মাথা থেকে টুপি পরে যাওয়ার পর টুপি ওঠানোর জন্য কেউ যদি আমলে কাসির করে অর্থাৎ সময় নিয়ে দুই হাত এমনভাবে ব্যবহার করে টুপি পরিধান করে যে তাকে দেখে মনে হয় সে নামাজ পড়ছে না, তাহলে তার নামাজ ভেঙে যাবে। তাই টুপি ওঠানোর জন্য যেন আমলে কারিস না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দাঁড়ানো বা রুকু অবস্থায় মাথা থেকে টুপি পরে গেলে তা ওঠানোর চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেহেতু এ অবস্থায় আমলে কাসির না করে টুপি ওঠানো অসম্ভব। সিজদা বা বৈঠকের সময় টুপি পরে গেলে এক হাত দিয়ে উঠিয়ে পড়ে নেবে।