London ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম

মোঃ বিল্লাল সরকার(ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি)

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি Certified Analytics Professional (CAP–Expert) অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনে জ্ঞাননির্ভর নেতৃত্ব, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং আধুনিক ডেটা-চালিত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামের কৃতি সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন উপ-সচিব, গবেষক ও লেখক আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ Certified Analytics Professional (CAP–Expert) সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তিনি গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত পেশাদার ও গবেষণা সংস্থা INFORMS (Institute for Operations Research and the Management Sciences) কর্তৃক এই সম্মানজনক সনদ লাভ করেন। CAP সার্টিফিকেশন বিশ্বব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি খাতে ডেটা অ্যানালিটিক্স, সিদ্ধান্ত-সহায়ক বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় পেশাগত উৎকর্ষতার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। Certified Analytics Professional (CAP) একটি ভেন্ডর-নিউট্রাল ও গ্লোবালি স্বীকৃত সার্টিফিকেশন, যা কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, টুল বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং বাস্তব জীবনের জটিল প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার সমাধানে ডেটা অ্যানালিটিক্সকে কীভাবে কার্যকর, নৈতিক ও কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করা যায়—সেই সামগ্রিক সক্ষমতাকেই এই সার্টিফিকেশন মূল্যায়ন করে। কর্পোরেট খাতের পাশাপাশি সরকারি প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবা ও শাসনব্যবস্থায় এর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই সার্টিফিকেশন অ্যানালিটিক্সের সম্পূর্ণ মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের চক্রকে গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আওতায় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও বিশ্লেষণ, ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতি নির্বাচন, মডেল নির্মাণ ও যাচাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মডেলের কার্যকর প্রয়োগ, বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে ফলাফল মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হয়। একইসঙ্গে এতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, কার্যকর যোগাযোগ, নেতৃত্বগুণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ও জনস্বার্থের সঙ্গে অ্যানালিটিক্সের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার সক্ষমতাও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ও সচিবালয়ে মোট ১৯ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই অর্জন বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনে ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অ্যানালিটিক্সের কার্যকর প্রয়োগ বর্তমান সময়ের একটি অপরিহার্য চাহিদা—যেখানে তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি একজন পিএইচডিধারী গবেষক ও লেখক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, অপারেশনস রিসার্চ, কম্পিউটার সায়েন্স, শিল্প প্রকৌশল, গণিতসহ বিভিন্ন শাস্ত্রের সমন্বিত প্রয়োগে অ্যানালিটিক্সকে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে তাঁর এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। গবেষণা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে দৃষ্টিভঙ্গি তিনি ধারণ করেন, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি একজন সংবেদনশীল ও স্বনির্মিত ব্যাক্তিত্ব। একজন বহুমাত্রিক লেখক ও গবেষক, যিনি জীবন, সমাজ ও মানুষের গভীরতাকে তুলে ধরেন গল্পের ভাষায়। তাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা নিজের এলাকায়, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ। উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এশিয়া ও ইউরোপে বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ছাড়াও জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপে কোবে ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ফুলব্রাইট স্কলারশিপে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

পেশাগতভাবে তিনি সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গ্রাম ও শহরের অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে অধ্যয়ন, এবং প্রশাসনের মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দায়িত্ব পালন তাঁকে দিয়েছে মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও সমাজের নানা রসদ। এসব অনুষঙ্গ, গভীর অন্তদৃষ্টি, ও বহুমাত্রিক জীবনবোধ তাঁর লেখাকে করেছে সমৃদ্ধ ও মননশীল। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
কাব্যগ্রন্থ: যে কথা যায় না বলা (২০২২, আগামী প্রকাশনী), চিন্তানুরণন (২০২৩, মাত্রাপ্রকাশ), দ্বান্দ্বিক সময়ের কম্পিত স্বর (২০২৪, মাত্রাপ্রকাশ), গল্পগ্রন্থ: লুকোচুরির জীবন (২০২৩, সৃজন প্রকাশনী), প্রবন্ধ: বিতর্কিত বিষয়ে বাতেনি বাত (২০২৫, সৃজন প্রকাশনী), এছাড়াও জাতীয় পত্রিকায় নানান সময়ে তাঁর কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক সাফল্য কেবল একজন ব্যক্তির পেশাগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কসবা উপজেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্যও এক বিরল গৌরবের বিষয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন—দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, গবেষক, বিসিএস প্রত্যাশী ও তরুণ প্রশাসনকর্মীদের কাছে তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, অধ্যবসায়, জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বমহলে। দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
Translate »

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম

আপডেট : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি Certified Analytics Professional (CAP–Expert) অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনে জ্ঞাননির্ভর নেতৃত্ব, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং আধুনিক ডেটা-চালিত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামের কৃতি সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন উপ-সচিব, গবেষক ও লেখক আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ Certified Analytics Professional (CAP–Expert) সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তিনি গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত পেশাদার ও গবেষণা সংস্থা INFORMS (Institute for Operations Research and the Management Sciences) কর্তৃক এই সম্মানজনক সনদ লাভ করেন। CAP সার্টিফিকেশন বিশ্বব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি খাতে ডেটা অ্যানালিটিক্স, সিদ্ধান্ত-সহায়ক বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় পেশাগত উৎকর্ষতার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। Certified Analytics Professional (CAP) একটি ভেন্ডর-নিউট্রাল ও গ্লোবালি স্বীকৃত সার্টিফিকেশন, যা কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, টুল বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং বাস্তব জীবনের জটিল প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার সমাধানে ডেটা অ্যানালিটিক্সকে কীভাবে কার্যকর, নৈতিক ও কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করা যায়—সেই সামগ্রিক সক্ষমতাকেই এই সার্টিফিকেশন মূল্যায়ন করে। কর্পোরেট খাতের পাশাপাশি সরকারি প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবা ও শাসনব্যবস্থায় এর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই সার্টিফিকেশন অ্যানালিটিক্সের সম্পূর্ণ মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের চক্রকে গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আওতায় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও বিশ্লেষণ, ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতি নির্বাচন, মডেল নির্মাণ ও যাচাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মডেলের কার্যকর প্রয়োগ, বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে ফলাফল মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হয়। একইসঙ্গে এতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, কার্যকর যোগাযোগ, নেতৃত্বগুণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ও জনস্বার্থের সঙ্গে অ্যানালিটিক্সের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার সক্ষমতাও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ও সচিবালয়ে মোট ১৯ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই অর্জন বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনে ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অ্যানালিটিক্সের কার্যকর প্রয়োগ বর্তমান সময়ের একটি অপরিহার্য চাহিদা—যেখানে তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি একজন পিএইচডিধারী গবেষক ও লেখক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, অপারেশনস রিসার্চ, কম্পিউটার সায়েন্স, শিল্প প্রকৌশল, গণিতসহ বিভিন্ন শাস্ত্রের সমন্বিত প্রয়োগে অ্যানালিটিক্সকে বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে তাঁর এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। গবেষণা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে দৃষ্টিভঙ্গি তিনি ধারণ করেন, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি একজন সংবেদনশীল ও স্বনির্মিত ব্যাক্তিত্ব। একজন বহুমাত্রিক লেখক ও গবেষক, যিনি জীবন, সমাজ ও মানুষের গভীরতাকে তুলে ধরেন গল্পের ভাষায়। তাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা নিজের এলাকায়, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ। উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এশিয়া ও ইউরোপে বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ছাড়াও জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপে কোবে ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ফুলব্রাইট স্কলারশিপে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

পেশাগতভাবে তিনি সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গ্রাম ও শহরের অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে অধ্যয়ন, এবং প্রশাসনের মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দায়িত্ব পালন তাঁকে দিয়েছে মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও সমাজের নানা রসদ। এসব অনুষঙ্গ, গভীর অন্তদৃষ্টি, ও বহুমাত্রিক জীবনবোধ তাঁর লেখাকে করেছে সমৃদ্ধ ও মননশীল। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
কাব্যগ্রন্থ: যে কথা যায় না বলা (২০২২, আগামী প্রকাশনী), চিন্তানুরণন (২০২৩, মাত্রাপ্রকাশ), দ্বান্দ্বিক সময়ের কম্পিত স্বর (২০২৪, মাত্রাপ্রকাশ), গল্পগ্রন্থ: লুকোচুরির জীবন (২০২৩, সৃজন প্রকাশনী), প্রবন্ধ: বিতর্কিত বিষয়ে বাতেনি বাত (২০২৫, সৃজন প্রকাশনী), এছাড়াও জাতীয় পত্রিকায় নানান সময়ে তাঁর কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক সাফল্য কেবল একজন ব্যক্তির পেশাগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কসবা উপজেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জন্যও এক বিরল গৌরবের বিষয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন—দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, গবেষক, বিসিএস প্রত্যাশী ও তরুণ প্রশাসনকর্মীদের কাছে তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, অধ্যবসায়, জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বমহলে। দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা।