London ০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত পটুয়াখালী জেলার চারটি ইউনিট বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি সিলেট প্রেসক্লাবে ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই’র সম্মানে এমজেএম গ্রুপের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠিত রাণীনগরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের লিফলেট বিতরণ সিরাজগঞ্জে অসহায় শ্রমিকদের মাঝে রংতুলি শ্রমিক ফেডারেশনের খাদ্য সামগ্রী প্রদান নেত্রকোণায় জলমহাল সংস্কার ও খনন শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত আলুর বিক্রি করে হিমাগারের ভাড়াই উঠছে না কৃষকের শিয়ালকোলে বারাআত মাহফিলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৮০ ড্রেস বিতরণ সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ঠোঁট-কাটা, তালু কাটা রোগীদের আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারী চালু প্রবাসী’র পক্ষে ব‍্যারিস্টার নাজির ও মীর্জা আসহাব এর বিমান ও পর্যটন সচিব ও উপদেষ্টার সাথে বৈঠক

সৈয়দপুরে ৬১০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর বাজারে বাদশা গোস্ত ভান্ডারের বাদশা মিয়া রোববার স্বল্প মূল্যে মাংস বিক্রি শুরু করেনছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬১০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর বাজারে বাদশা গোস্ত ভান্ডারের বাদশা মিয়া রোববার স্বল্পমূল্যে মাংস বিক্রি শুরু করেন।

দোকানটিতে সকাল থেকে ব্যাগ হাতে ভিড় করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সারিবদ্ধভাবে কেউ এক কেজি, কেউ দুই কেজি কিংবা তার বেশি মাংস কেনেন। শুরুর দিনেই দেশি ও সংকর জাতের পাঁচটি গরু কেটে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

বাজারের লোকজন জানান, সৈয়দপুর বাজারে যেখানে গরুর মাংস ৭০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কথা ভেবে কম দামে মাংস বিক্রির এমন উদ্যোগ নেওয়ায় শহরজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন বাদশা মিয়া।

মাংস কিনতে আসা বোতলাগাড়ী পোড়ারহাটের রফিক মিয়া বলেন, ‘২ কেজি মাংস নিয়েছি ৬১০ টাকা কেজি দরে। অথচ সৈয়দপুর বাজার থেকে নিলে ৭০০ টাকা করে নিত। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের উপকারই হলো।’ আধা কেজি মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন উত্তরা আবাসনের আসমা খাতুন (৫৫) বেওয়া। তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাস মাংস খাইনি। কম দামে পেয়ে আজ অনেক দিন পর আধা কেজি মাংস নিয়ে যাচ্ছি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের সামনেই গরু জবাই হচ্ছে। সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোকানে মাংস তোলা হচ্ছে। মানুষজন এসে সাধ্যমতো মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

মাংস বিক্রেতা বাদশা মিয়া বলেন, তিনি পেশাদার কসাই নন। শুধু নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে কম দামে মাংস বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতিদিনই এই দামেই বিক্রি চলবে। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিনে আজ দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের পাঁচটি গরু জবাই করে বিক্রি করেছেন। পাশেই পশুর হাট, ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে ভালো মানের গরু পাওয়া যায়। বহন খরচও তেমন পড়ে না। সব কাজ সেরে প্রতি কেজিতে আমার ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভ হয়। এতেই আমি খুশি।’ বরং বিক্রি বাড়লে দাম আরও কমিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ দিকে শহরের অন্যান্য কসাইরাও দাম কমানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। বাদশা যদি পারেন তাহলে আমরাও পারব।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ১২:০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪
১০৩
Translate »

সৈয়দপুরে ৬১০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি

আপডেট : ১২:০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর বাজারে বাদশা গোস্ত ভান্ডারের বাদশা মিয়া রোববার স্বল্প মূল্যে মাংস বিক্রি শুরু করেনছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬১০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর বাজারে বাদশা গোস্ত ভান্ডারের বাদশা মিয়া রোববার স্বল্পমূল্যে মাংস বিক্রি শুরু করেন।

দোকানটিতে সকাল থেকে ব্যাগ হাতে ভিড় করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সারিবদ্ধভাবে কেউ এক কেজি, কেউ দুই কেজি কিংবা তার বেশি মাংস কেনেন। শুরুর দিনেই দেশি ও সংকর জাতের পাঁচটি গরু কেটে মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

বাজারের লোকজন জানান, সৈয়দপুর বাজারে যেখানে গরুর মাংস ৭০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কথা ভেবে কম দামে মাংস বিক্রির এমন উদ্যোগ নেওয়ায় শহরজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন বাদশা মিয়া।

মাংস কিনতে আসা বোতলাগাড়ী পোড়ারহাটের রফিক মিয়া বলেন, ‘২ কেজি মাংস নিয়েছি ৬১০ টাকা কেজি দরে। অথচ সৈয়দপুর বাজার থেকে নিলে ৭০০ টাকা করে নিত। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের উপকারই হলো।’ আধা কেজি মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন উত্তরা আবাসনের আসমা খাতুন (৫৫) বেওয়া। তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাস মাংস খাইনি। কম দামে পেয়ে আজ অনেক দিন পর আধা কেজি মাংস নিয়ে যাচ্ছি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের সামনেই গরু জবাই হচ্ছে। সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোকানে মাংস তোলা হচ্ছে। মানুষজন এসে সাধ্যমতো মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

মাংস বিক্রেতা বাদশা মিয়া বলেন, তিনি পেশাদার কসাই নন। শুধু নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে কম দামে মাংস বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতিদিনই এই দামেই বিক্রি চলবে। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিনে আজ দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের পাঁচটি গরু জবাই করে বিক্রি করেছেন। পাশেই পশুর হাট, ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজারের মধ্যে ভালো মানের গরু পাওয়া যায়। বহন খরচও তেমন পড়ে না। সব কাজ সেরে প্রতি কেজিতে আমার ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভ হয়। এতেই আমি খুশি।’ বরং বিক্রি বাড়লে দাম আরও কমিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ দিকে শহরের অন্যান্য কসাইরাও দাম কমানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। বাদশা যদি পারেন তাহলে আমরাও পারব।’