London ০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
বারহাট্টায় চোরাচালানকালে ৩২ ভারতীয় গরু সহ ১ চোরাকারবারি আটক সারাদেশে ৫ লাখের অধিক আনসার সদস্যরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন আলফাডাঙ্গায় নিয়মের নীতির ধার ধারে না, নিজের সময়েই অফিস: মনগড়া রুটিনে শিক্ষা অফিসার রাজশাহীতে ২৮ বোতল মদ উ অসহায় পরিবারের বসতঘর নির্মা‌ণে ঢেউটিন বিতরণ ক‌রে‌ছে নানিয়ারচর সেনা জোন চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নেত্রকোণায় কলেজছাত্রের মৃত্যু নেত্রকোণায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ২ শ্রমিক দূর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বাধা বোয়ালখালী’র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ক‌রে‌ছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন বগুড়ায় শীতবস্ত্র বিতরণে ঐক্যের প্রান্নাথপুর

সাবহেড: নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ স্পষ্ট হলেও শিক্ষা অফিসারের কোনো ব্যাখ্যা নেই; ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মিলছে না জবাব

আলফাডাঙ্গায় নিয়মের নীতির ধার ধারে না, নিজের সময়েই অফিস: মনগড়া রুটিনে শিক্ষা অফিসার

মোঃতারিকুল ইসলাম,ফরিদপুর প্রতিনিধি:

সরকারি দপ্তরের সময় সকাল ৯টা। কিন্তু ওই সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যত অচল থাকে। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম নিয়মিত অফিসে আসেন দুপুর ১২টার পর। সাংবাদিকদের একাধিক দিনের সরাসরি নজরদারিতে উঠে এসেছে এই অনিয়ম—যা সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।

সরকারি বিধি অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। কিন্তু বাস্তবে মো. রফিকুল ইসলামের উপস্থিতি শুরু হয় দুপুরের পর। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এবং পাবলিক এমপ্লয়িজ ডিসিপ্লিন (পাঙ্কচুয়াল অ্যাটেনডেন্স) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম 

রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন-এর জেলা প্রতিনিধি ইমরান হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে শিক্ষা অফিসারকে পাননি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এক ঘণ্টা পরে আসব।”
এক ঘণ্টা পর আবার ফোন দিলে জানান, “আরেকটু দেরি হবে।”

অবশেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি অফিসে প্রবেশ করেন।

অফিসে ঢোকার পর সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নুর মৌসুমির বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনিক এই নীরবতা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন,
“সরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। তিনি কীভাবে অফিস করেন, সে বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। আমি এখন অফিসের বাইরে আছি। বিষয়টি দেখছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন ফরিদপুর জেলা শহর থেকে আলফাডাঙ্গায় যাতায়াত করেন। দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। তবে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের মতে, যাতায়াতের দূরত্ব নিয়মিত দেরির গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত অফিস সময়ে অনুপস্থিত থাকা সরাসরি মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত। এর জন্য বেতন কর্তন, বিভাগীয় শাস্তি এমনকি বিধি অনুযায়ী মামলারও সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসারের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষকসংক্রান্ত নানা সমস্যা নিষ্পত্তি হচ্ছে না, প্রশাসনিক কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার মানের ওপর।

সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
Translate »

সাবহেড: নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ স্পষ্ট হলেও শিক্ষা অফিসারের কোনো ব্যাখ্যা নেই; ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মিলছে না জবাব

আলফাডাঙ্গায় নিয়মের নীতির ধার ধারে না, নিজের সময়েই অফিস: মনগড়া রুটিনে শিক্ষা অফিসার

আপডেট : ০২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি দপ্তরের সময় সকাল ৯টা। কিন্তু ওই সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যত অচল থাকে। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম নিয়মিত অফিসে আসেন দুপুর ১২টার পর। সাংবাদিকদের একাধিক দিনের সরাসরি নজরদারিতে উঠে এসেছে এই অনিয়ম—যা সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।

সরকারি বিধি অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। কিন্তু বাস্তবে মো. রফিকুল ইসলামের উপস্থিতি শুরু হয় দুপুরের পর। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এবং পাবলিক এমপ্লয়িজ ডিসিপ্লিন (পাঙ্কচুয়াল অ্যাটেনডেন্স) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম 

রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন-এর জেলা প্রতিনিধি ইমরান হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে শিক্ষা অফিসারকে পাননি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এক ঘণ্টা পরে আসব।”
এক ঘণ্টা পর আবার ফোন দিলে জানান, “আরেকটু দেরি হবে।”

অবশেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি অফিসে প্রবেশ করেন।

অফিসে ঢোকার পর সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নুর মৌসুমির বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনিক এই নীরবতা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন,
“সরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। তিনি কীভাবে অফিস করেন, সে বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। আমি এখন অফিসের বাইরে আছি। বিষয়টি দেখছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন ফরিদপুর জেলা শহর থেকে আলফাডাঙ্গায় যাতায়াত করেন। দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। তবে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের মতে, যাতায়াতের দূরত্ব নিয়মিত দেরির গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত অফিস সময়ে অনুপস্থিত থাকা সরাসরি মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত। এর জন্য বেতন কর্তন, বিভাগীয় শাস্তি এমনকি বিধি অনুযায়ী মামলারও সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসারের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষকসংক্রান্ত নানা সমস্যা নিষ্পত্তি হচ্ছে না, প্রশাসনিক কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার মানের ওপর।

সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।