London ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

সৎ নেতৃত্বেই নিশ্চিত হবে উপকূলের উন্নয়ন – সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

এবিএম কাইয়ুম রাজ, সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় এলাকা গাবুরা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ২৮ নভেম্বর বিকালে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং উপকূলীয় জনপদের উন্নয়ন ভাবনাকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ, বিশেষ করে নদী–নির্ভর জেলে সম্প্রদায় এবং লোকসংগীত শিল্পে জনপ্রিয় বাওলিদের কল্যাণ বিষয়ক নানা প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের জেলেরা নদী ও সাগরের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তারা ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবা থেকে প্রায়ই বঞ্চিত থাকে। একইভাবে বাওলি শিল্পীরা আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ, অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার, পেশাগত সুরক্ষা এবং সংস্কৃতি বিকাশে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই জামায়াতের সবচেয়ে বড়ো শক্তি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের অধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল। তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা তুলে ধরে বলেন, নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। উপকূলীয় অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ বলেন, “দেশের সার্বিক সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, উপকূলের এই জনগণই বদলে দিতে পারে দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় স্থানীয় হাজারো নেতাকর্মী, জেলে, বাওলি শিল্পী, কৃষক, শিক্ষক, তরুণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পুরো সভাস্থল উৎসবমুখর পরিবেশে জনসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে।

সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলে বিশেষভাবে জেলে ও বাওলি শিল্পীদের নিরাপত্তা, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়, যা উপস্থিত জনগণের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৩:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
৩৬
Translate »

সৎ নেতৃত্বেই নিশ্চিত হবে উপকূলের উন্নয়ন – সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

আপডেট : ০৩:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় এলাকা গাবুরা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ২৮ নভেম্বর বিকালে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং উপকূলীয় জনপদের উন্নয়ন ভাবনাকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ, বিশেষ করে নদী–নির্ভর জেলে সম্প্রদায় এবং লোকসংগীত শিল্পে জনপ্রিয় বাওলিদের কল্যাণ বিষয়ক নানা প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের জেলেরা নদী ও সাগরের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তারা ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবা থেকে প্রায়ই বঞ্চিত থাকে। একইভাবে বাওলি শিল্পীরা আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ, অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার, পেশাগত সুরক্ষা এবং সংস্কৃতি বিকাশে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই জামায়াতের সবচেয়ে বড়ো শক্তি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের অধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল। তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা তুলে ধরে বলেন, নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। উপকূলীয় অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ বলেন, “দেশের সার্বিক সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, উপকূলের এই জনগণই বদলে দিতে পারে দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় স্থানীয় হাজারো নেতাকর্মী, জেলে, বাওলি শিল্পী, কৃষক, শিক্ষক, তরুণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পুরো সভাস্থল উৎসবমুখর পরিবেশে জনসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে।

সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলে বিশেষভাবে জেলে ও বাওলি শিল্পীদের নিরাপত্তা, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়, যা উপস্থিত জনগণের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।