London ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় তরুণী

অনলাইন ডেস্ক:

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় এসেছেন ভিক্টোরিয়া নামের রাশিয়ান এক তরুণী। শাড়ি পড়ে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানজুড়ে ছিলেন তিনি। বাঙালি খাবার খেয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দে মেতেছেন তিনি।

আমেরিকা প্রবাসী তানভীর ইসলাম ও মেহেজাবীন মতিন মৌয়ের বিয়েতে অংশ নিতে গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন তিনি।

তানভীর পাবনার শিবরামপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে। পাবনার জনপ্রিয় ব্যান্ড দল বিহঙ্গ এর লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট। সংগীত পরিচালক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

অন্যদিকে ভিক্টোরিয়ার পুরো নাম ভিক্টোরিয়া ডেগতারেভা (৩৫)। তিনি জন্মসূত্রে রাশিয়ান। আমেরিকায় বিউটিশিয়ানের পেশায় নিয়োজিত। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও কালচার উপভোগ তার প্রধান শখ।

jagonews24

আয়োজকরা জানান, ভিক্টোরিয়ার বাবা ও মা রাশিয়াতে থাকেন। কাজের জন্য ১২ বছর ধরে তিনি থাকেন আমেরিকায়। বেড়াতে তার ভালো লাগে। বিভিন্ন দেশের খাবার ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে। তাই সুযোগ পেলে অন্য দেশে বেড়াতে যান। তার সহকর্মী তনিমা ইসলাম আখির ভাই তানভীরের বিয়ে হচ্ছে জেনে তার আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দেশে এসে বিয়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এনগেজমেন্ট, মেহেদী উৎসবসহ সব আয়োজনে মিশে ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো।

বুধবার (৯ এপ্রিল) কনের গায়ে হলুদ, বৃহস্পতিবার বরের গায়ে হলুদ, শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠান ও শনিবার বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভিক্টোরিয়া।

স্থানীয়রা জানান, ভিক্টোরিয়া দেখতে আলাদা হলেও অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কনের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে তিনি নীল রঙের শাড়ি পরেছিলেন। শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীতে হলুদ শাড়ি পরে বরণডালা হাতে অনুষ্ঠানে গেছেন। বৌভাতের দিনেও তিনি শাড়ি পরেছেন। বাঙালি খাবার খেয়েছেন। চামচ দিলেও সেটি ব্যবহার করেননি। ঘুমিয়েছেন সবার সঙ্গে বিয়ে বাড়ির খোলামেলা পরিবেশে। শিশু বাচ্চা দেখলে কোলে তুলে নিয়েছেন আপন মমতায়। দীর্ঘ সময় কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ভিক্টোরিয়া সবার সঙ্গে একদম মিশে ছিলেন।

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় তরুণী

তানভীরের বড়বোন তনিমা ইসলাম আখি বলেন, হুট করে ভিক্টোরিয়া আসায় আমরা একটু চিন্তায় পড়েছিলাম। কারণ আমেরিকার পরিবেশ ও কালচার এক নয়। এখানে তাও আবার মফস্বল শহুরে কালচার। তবে এসব চিন্তা বেশিক্ষণ থাকলো না। দেখলাম মুহূর্তে সবার সঙ্গে ভিক্টোরিয়া মিশে গেছে। বাড়িতে যা রান্না হচ্ছে, তা–ই খাচ্ছে। চামচের দরকার হচ্ছে না, দিলেও চামচ ব্যবহার করছে না।

তানভির ইসলাম বলেন, আমার বাবা-মাও আমেরিকায় থাকেন। অসুস্থতার জন্য তারা আসতে পারেননি। এজন্য মন কিছুটা খারাপ ছিল। মনে হচ্ছিল বিয়ের আয়োজনটা তেমন জমবে না। কিন্তু সেই জায়গাটুকু উনি (ভিক্টোরিয়া) অনেকটা ফিলআপ করেছে। তার দ্রুত সবার সঙ্গে মিশে যাওয়া ও হই-হুল্লোড় বিয়ের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এভাবে সবার সঙ্গে মিশতে পারবেন এটা ভাবতে অবাক লেগেছে।

তানভীরের বন্ধু নুজহাত তুষ্টি বলেন, উনাকে আমরা আলাদা করে ভাবতে পারিনি। কেননা সবার সঙ্গে একদম মিশেছিলেন। আমার সাতমাস বয়সী ছেলে রাজ্যকে উনি দেখে কোলে তুলে নিলেন। এরপর টানা দুই ঘণ্টা কোলে নিয়ে ঘুরেছেন।

এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া বলেন, রাশিয়াতেও বিয়ে বাড়িতে গেট ধরে বরের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঐতিহ্য আছে। তবে বাংলাদেশেরটা তার কাছে বেশি উপভোগ্য মনে হয়েছে। বর ও কনের গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে পুরো আনুষ্ঠানিকতা বেশ রঙিন ছিল। আমেরিকায় বাঙালি খাবার পাওয়া গেলেও কখনো খাওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মিসর, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেলেও বাঙালি বা ইন্ডিয়ান কালচার সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তাই বাংলাদেশে আসার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। এখানে এসে এবং বিয়ের এমন দীর্ঘ ও বর্ণিল আয়োজন দেখে তিনি অসম্ভব আনন্দিত বলে জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০২:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫
৬৮
Translate »

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় তরুণী

আপডেট : ০২:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় এসেছেন ভিক্টোরিয়া নামের রাশিয়ান এক তরুণী। শাড়ি পড়ে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানজুড়ে ছিলেন তিনি। বাঙালি খাবার খেয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দে মেতেছেন তিনি।

আমেরিকা প্রবাসী তানভীর ইসলাম ও মেহেজাবীন মতিন মৌয়ের বিয়েতে অংশ নিতে গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন তিনি।

তানভীর পাবনার শিবরামপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে। পাবনার জনপ্রিয় ব্যান্ড দল বিহঙ্গ এর লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট। সংগীত পরিচালক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

অন্যদিকে ভিক্টোরিয়ার পুরো নাম ভিক্টোরিয়া ডেগতারেভা (৩৫)। তিনি জন্মসূত্রে রাশিয়ান। আমেরিকায় বিউটিশিয়ানের পেশায় নিয়োজিত। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও কালচার উপভোগ তার প্রধান শখ।

jagonews24

আয়োজকরা জানান, ভিক্টোরিয়ার বাবা ও মা রাশিয়াতে থাকেন। কাজের জন্য ১২ বছর ধরে তিনি থাকেন আমেরিকায়। বেড়াতে তার ভালো লাগে। বিভিন্ন দেশের খাবার ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে। তাই সুযোগ পেলে অন্য দেশে বেড়াতে যান। তার সহকর্মী তনিমা ইসলাম আখির ভাই তানভীরের বিয়ে হচ্ছে জেনে তার আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দেশে এসে বিয়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এনগেজমেন্ট, মেহেদী উৎসবসহ সব আয়োজনে মিশে ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো।

বুধবার (৯ এপ্রিল) কনের গায়ে হলুদ, বৃহস্পতিবার বরের গায়ে হলুদ, শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠান ও শনিবার বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভিক্টোরিয়া।

স্থানীয়রা জানান, ভিক্টোরিয়া দেখতে আলাদা হলেও অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কনের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে তিনি নীল রঙের শাড়ি পরেছিলেন। শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীতে হলুদ শাড়ি পরে বরণডালা হাতে অনুষ্ঠানে গেছেন। বৌভাতের দিনেও তিনি শাড়ি পরেছেন। বাঙালি খাবার খেয়েছেন। চামচ দিলেও সেটি ব্যবহার করেননি। ঘুমিয়েছেন সবার সঙ্গে বিয়ে বাড়ির খোলামেলা পরিবেশে। শিশু বাচ্চা দেখলে কোলে তুলে নিয়েছেন আপন মমতায়। দীর্ঘ সময় কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ভিক্টোরিয়া সবার সঙ্গে একদম মিশে ছিলেন।

বাঙালি বিয়ে দেখতে আমেরিকা থেকে পাবনায় তরুণী

তানভীরের বড়বোন তনিমা ইসলাম আখি বলেন, হুট করে ভিক্টোরিয়া আসায় আমরা একটু চিন্তায় পড়েছিলাম। কারণ আমেরিকার পরিবেশ ও কালচার এক নয়। এখানে তাও আবার মফস্বল শহুরে কালচার। তবে এসব চিন্তা বেশিক্ষণ থাকলো না। দেখলাম মুহূর্তে সবার সঙ্গে ভিক্টোরিয়া মিশে গেছে। বাড়িতে যা রান্না হচ্ছে, তা–ই খাচ্ছে। চামচের দরকার হচ্ছে না, দিলেও চামচ ব্যবহার করছে না।

তানভির ইসলাম বলেন, আমার বাবা-মাও আমেরিকায় থাকেন। অসুস্থতার জন্য তারা আসতে পারেননি। এজন্য মন কিছুটা খারাপ ছিল। মনে হচ্ছিল বিয়ের আয়োজনটা তেমন জমবে না। কিন্তু সেই জায়গাটুকু উনি (ভিক্টোরিয়া) অনেকটা ফিলআপ করেছে। তার দ্রুত সবার সঙ্গে মিশে যাওয়া ও হই-হুল্লোড় বিয়ের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এভাবে সবার সঙ্গে মিশতে পারবেন এটা ভাবতে অবাক লেগেছে।

তানভীরের বন্ধু নুজহাত তুষ্টি বলেন, উনাকে আমরা আলাদা করে ভাবতে পারিনি। কেননা সবার সঙ্গে একদম মিশেছিলেন। আমার সাতমাস বয়সী ছেলে রাজ্যকে উনি দেখে কোলে তুলে নিলেন। এরপর টানা দুই ঘণ্টা কোলে নিয়ে ঘুরেছেন।

এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া বলেন, রাশিয়াতেও বিয়ে বাড়িতে গেট ধরে বরের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঐতিহ্য আছে। তবে বাংলাদেশেরটা তার কাছে বেশি উপভোগ্য মনে হয়েছে। বর ও কনের গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে পুরো আনুষ্ঠানিকতা বেশ রঙিন ছিল। আমেরিকায় বাঙালি খাবার পাওয়া গেলেও কখনো খাওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মিসর, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেলেও বাঙালি বা ইন্ডিয়ান কালচার সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তাই বাংলাদেশে আসার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। এখানে এসে এবং বিয়ের এমন দীর্ঘ ও বর্ণিল আয়োজন দেখে তিনি অসম্ভব আনন্দিত বলে জানান।