ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পাকুড়িয়া গ্রামের শিশু জায়ান মোল্লার মৃত্যুর ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্দেহভাজন কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ—এ অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। শোকে ভেঙে পড়া পরিবার বলছে, পুলিশ নিজেই জানে কারা পলাতক, তারপরও গ্রেপ্তারের অগ্রগতি নেই।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা বাজারের চৌরাস্তায় জাভেদ পারভেজ কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও জাভেদ পারভেজ মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট–এর শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধনে মানুষের ঢল নামে।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শিশুর মা কামরুন্নাহার সিনথিয়া বলেন “ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখে কোন মা ঠিক থাকতে পারে? আমার ছেলের কবরের মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর খুনি এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারা পলাতক—পুলিশ জানে। তাহলে ১১ দিনেও কাউকে ধরতে পারল না কেন?”
গত ২০ নভেম্বর, পাকুড়িয়া গ্রামের একটি বাগানে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু জায়ানের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে পুলিশ এসে লাশ নামায়। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সন্দেহভাজন চার ব্যক্তি এলাকা ছেড়েছেন—এ অভিযোগ দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
এএসপির মন্তব্য—‘লক্ষ্যবস্তু ঠিক করেছি’ সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালি সার্কেল) আজম খান এ বিষয়ে বলেন “আমরা ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্যবস্তু স্থির হয়েছে, খুব দ্রুতই একটি ফলাফল দেখতে পাবেন।”
উপপরিদর্শক লিয়াকত হোসেনের ‘লিখিতভাবে নাম–ঠিকানা চাওয়ার’ মন্তব্য নিয়ে তিনি আরও বলেন “নাম দিলেই কি তাদের পাওয়া যাবে? আমরা মাঠে কাজ করছি। আজ মামলার আইওসহ বসছি। পরিবারের যে দায়িত্ব, তার কোনো অংশ আমরা কম নিচ্ছি না। এই মামলাটাই এখন আমার প্রধান অগ্রাধিকার।”