London ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
দুর্গাপুরে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারি দম্পতি আটক গণভোট সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে মোহাম্মদ আলম হোসেন, জেলা প্রশাসক, গাজীপুর নেত্রকোণায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুদন্ড রাঙ্গামা‌টি দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীত উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার জন্য মানববন্ধন কলমাকান্দায় ইউএনওকে শাসানো ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর বরখাস্ত কসবা–আখাউড়া আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে আশার প্রতীক জহিরুল হক চৌধূরী রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্সের নির্বাচন স্থগিত রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত

মূল্যস্ফীতি কমেছে, তবে খাদ্যে তা এখনো ১০ শতাংশের বেশি

দেশে মূল্যস্ফীতি আরও কমেছে। সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের ওপরে থাকলেও তা আগের মাসের তুলনায় কমেছে। গত মাসে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এ নিয়ে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি কমল।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে। গত আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতি হয় ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি উভয়ই কমেছে। গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি হওয়ার অর্থ হলো, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যে পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য হয়েছে ১০৯ টাকা ৯২ পয়সা।

গত দেড় বছরের বেশি সময় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস, সবজি, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ চাপে পড়েন। কিছুদিন ধরে চালের দাম স্থিতিশীল আছে। তবে ডিমের ডজন ১৭০ টাকায় উঠেছে। অন্যদিকে বাজারে সবজির দামও এখনো বাড়তি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এক বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে আছে। মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো, যা ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার ওপর চাপ বাড়ায়। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি হলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালাতে ভোগান্তি বাড়ে।

কয়েক বছর ধরে বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে একধরনের সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন অর্থনীতিবিদেরা। তাঁদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির যে হিসাব দেওয়া হচ্ছিল, বাস্তবে তা আরও বেশি ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর চিত্র পাল্টে যায়। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশ অনেকটা বেড়ে যায়। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকের দাবি, বিবিএস এখন মূল্যস্ফীতির সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০২:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪
১০৯
Translate »

মূল্যস্ফীতি কমেছে, তবে খাদ্যে তা এখনো ১০ শতাংশের বেশি

আপডেট : ০২:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

দেশে মূল্যস্ফীতি আরও কমেছে। সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের ওপরে থাকলেও তা আগের মাসের তুলনায় কমেছে। গত মাসে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এ নিয়ে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি কমল।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে। গত আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতি হয় ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি উভয়ই কমেছে। গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি হওয়ার অর্থ হলো, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যে পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য হয়েছে ১০৯ টাকা ৯২ পয়সা।

গত দেড় বছরের বেশি সময় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস, সবজি, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ চাপে পড়েন। কিছুদিন ধরে চালের দাম স্থিতিশীল আছে। তবে ডিমের ডজন ১৭০ টাকায় উঠেছে। অন্যদিকে বাজারে সবজির দামও এখনো বাড়তি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এক বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে আছে। মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো, যা ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার ওপর চাপ বাড়ায়। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি হলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সংসার চালাতে ভোগান্তি বাড়ে।

কয়েক বছর ধরে বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে একধরনের সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন অর্থনীতিবিদেরা। তাঁদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির যে হিসাব দেওয়া হচ্ছিল, বাস্তবে তা আরও বেশি ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর চিত্র পাল্টে যায়। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশ অনেকটা বেড়ে যায়। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকের দাবি, বিবিএস এখন মূল্যস্ফীতির সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।