London ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

মিথ্যা অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘জীবন তরী সমাজকল্যাণ সংস্থা’র পরিচালক মো: মারুফ হোসেন। একটি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপর ১২ টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মারুফ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের অধীনে প্রতি তিন মাসে ৩৫০ জন বেকারকে প্রশিক্ষণ দেয়। গত বছরের মে মাসে সোনিয়া জামান নামে এক নারী বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ভর্তি হন। ১৭ মে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় সোনিয়া জামান ব্যবহারিক অংশে (নাক-কান ফোটানো) অকৃতকার্য হন। এই পরীক্ষাটি সরাসরি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) প্রতিনিধিরা গ্রহণ করেন, যেখানে মারুফ হোসেনের কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না।

তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় ফেল করার পর সোনিয়া জামান তাকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিক অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ রক্ষা না করায় ঘটনার প্রায় ৭ মাস পর সোনিয়া ও তার স্বামী আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে মারুফ হোসেনের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করেন।

মারুফ বলেন, সোনিয়া জামানের স্বামী আরিফুল ইসলাম তাকে ফোন করে ‘দেখে নেওয়ার’ এবং প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ নভেম্বর তারা আরএমপি পুলিশ কমিশনার এবং ১৭ ও ২৪ নভেম্বর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, মারুফ হোসেন সোনিয়া জামানকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়েছেন।

মারুফ আরও বলেন, এই চক্রের সাথে কাশিয়াডাঙ্গা থানার এক বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী সীমা খাতুন যুক্ত হয়েছেন। সীমা খাতুন বিভিন্ন সময় ফোন করে এবং টিকটকের মাধ্যমে মারুফ হোসেনের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিষয়টির তদন্ত সম্পন্ন করেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রভাবশালী একটি মহল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ওই তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোনিয়া জামান লেভেল-২ পরীক্ষায় যখন পাশ করেছিলেন, তখন কেন কোনো অভিযোগ ছিল না? লেভেল-৩ এ নিজের অযোগ্যতার কারণে ফেল করার পরই কেন এই সব কাল্পনিক অভিযোগ আনা হচ্ছে?

বক্তব্যের শেষে মারুফ বলেন, বিধি মোতাবেক পরীক্ষায় ফেল করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও সোনিয়া জামান তা করেননি। বরং ৭ মাস পর এসে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্য তুলে ধরার জন্য প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৩:১৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
Translate »

মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৩:১৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মিথ্যা অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘জীবন তরী সমাজকল্যাণ সংস্থা’র পরিচালক মো: মারুফ হোসেন। একটি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপর ১২ টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মারুফ হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের অধীনে প্রতি তিন মাসে ৩৫০ জন বেকারকে প্রশিক্ষণ দেয়। গত বছরের মে মাসে সোনিয়া জামান নামে এক নারী বিউটিফিকেশন লেভেল-৩ কোর্সে ভর্তি হন। ১৭ মে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় সোনিয়া জামান ব্যবহারিক অংশে (নাক-কান ফোটানো) অকৃতকার্য হন। এই পরীক্ষাটি সরাসরি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) প্রতিনিধিরা গ্রহণ করেন, যেখানে মারুফ হোসেনের কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না।

তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় ফেল করার পর সোনিয়া জামান তাকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিক অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ রক্ষা না করায় ঘটনার প্রায় ৭ মাস পর সোনিয়া ও তার স্বামী আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে মারুফ হোসেনের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করেন।

মারুফ বলেন, সোনিয়া জামানের স্বামী আরিফুল ইসলাম তাকে ফোন করে ‘দেখে নেওয়ার’ এবং প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ নভেম্বর তারা আরএমপি পুলিশ কমিশনার এবং ১৭ ও ২৪ নভেম্বর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, মারুফ হোসেন সোনিয়া জামানকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়েছেন।

মারুফ আরও বলেন, এই চক্রের সাথে কাশিয়াডাঙ্গা থানার এক বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী সীমা খাতুন যুক্ত হয়েছেন। সীমা খাতুন বিভিন্ন সময় ফোন করে এবং টিকটকের মাধ্যমে মারুফ হোসেনের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিষয়টির তদন্ত সম্পন্ন করেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রভাবশালী একটি মহল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ওই তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোনিয়া জামান লেভেল-২ পরীক্ষায় যখন পাশ করেছিলেন, তখন কেন কোনো অভিযোগ ছিল না? লেভেল-৩ এ নিজের অযোগ্যতার কারণে ফেল করার পরই কেন এই সব কাল্পনিক অভিযোগ আনা হচ্ছে?

বক্তব্যের শেষে মারুফ বলেন, বিধি মোতাবেক পরীক্ষায় ফেল করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও সোনিয়া জামান তা করেননি। বরং ৭ মাস পর এসে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্য তুলে ধরার জন্য প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।