London ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
লেখক ও গবেষক জসীম উদ্দিন খন্দকার রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনু‌ষ্ঠিত একজন সফল মহিলা উদ্যোক্তার গল্প সিরাজগঞ্জে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ সিরাজগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক আবর্জনা সংগ্রহে মিলছে নগদ টাকা সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে হাজী আব্দুস সাত্তার সিরাজগঞ্জে ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ, দুই ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা সিরাজগ‌ঞ্জে মাছবোঝাই নসিমনের চাপায় শিশু নিহত রাজশাহীতে প্রতারণা করে জুলাই সনদ গ্রহন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, ইতালী শাখা’র উদ্যোগে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদনহীন ভবনের লিফট ছিঁড়ে স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

মোঃ বিল্লাল সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের টেংকের পাড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে নির্মিত অনুমোদন ও ছাড়পত্রবিহীন বহুতল ভবন ‘ফ্রেন্ডস টাওয়ার’-এ লিফট ছিঁড়ে পড়ে রোয়া রহমান (৮) নামে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে।
আহত শিশুটির পিতা মুখলেস রহমান জানান, হঠাৎ লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেলে ভেতরে থাকা তার মেয়ে মাথা, নাক ও চোখে মারাত্মক আঘাত পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পুরো ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভবনের একাধিক ফ্ল্যাট মালিক অভিযোগ করেন, নির্মাণ শুরুর সময় থেকেই নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করার মতো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বসবাস করছেন।
ভবনের ৮ম তলার বাসিন্দা ডা. তৌহিদ চৌধুরী বলেন, সম্পূর্ণ ও অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের পরও দীর্ঘ সময় পার হলেও তার নির্ধারিত গ্যারেজ এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি ভবনটির সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ছিল ১০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। নেতৃত্বে ছিলেন যুবলীগ নেতা হাজী আবু কাউসার ও এমরান হোসেনসহ কয়েকজন। পরবর্তীতে হাজী আবু কাউসার শেয়ার বিক্রি করে সরে গেলে এমরান হোসেন নির্মাণকাজের নেতৃত্ব দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিজেদের ডেভেলপার ও ব্যবসায়ী পরিচয়ে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রি শুরু করেন, যদিও যথাযথ অনুমোদন ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির জমি পূর্বে একটি পুকুর ছিল, যা ভরাট করে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই দশতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পৌর এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত এ ভবনটি বর্তমানে চরম অগ্নি ও কাঠামোগত ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভবনের বাসিন্দারা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Translate »

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদনহীন ভবনের লিফট ছিঁড়ে স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

আপডেট : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের টেংকের পাড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে নির্মিত অনুমোদন ও ছাড়পত্রবিহীন বহুতল ভবন ‘ফ্রেন্ডস টাওয়ার’-এ লিফট ছিঁড়ে পড়ে রোয়া রহমান (৮) নামে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে।
আহত শিশুটির পিতা মুখলেস রহমান জানান, হঠাৎ লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেলে ভেতরে থাকা তার মেয়ে মাথা, নাক ও চোখে মারাত্মক আঘাত পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পুরো ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভবনের একাধিক ফ্ল্যাট মালিক অভিযোগ করেন, নির্মাণ শুরুর সময় থেকেই নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করার মতো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বসবাস করছেন।
ভবনের ৮ম তলার বাসিন্দা ডা. তৌহিদ চৌধুরী বলেন, সম্পূর্ণ ও অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের পরও দীর্ঘ সময় পার হলেও তার নির্ধারিত গ্যারেজ এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি ভবনটির সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ছিল ১০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। নেতৃত্বে ছিলেন যুবলীগ নেতা হাজী আবু কাউসার ও এমরান হোসেনসহ কয়েকজন। পরবর্তীতে হাজী আবু কাউসার শেয়ার বিক্রি করে সরে গেলে এমরান হোসেন নির্মাণকাজের নেতৃত্ব দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিজেদের ডেভেলপার ও ব্যবসায়ী পরিচয়ে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রি শুরু করেন, যদিও যথাযথ অনুমোদন ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির জমি পূর্বে একটি পুকুর ছিল, যা ভরাট করে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই দশতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পৌর এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত এ ভবনটি বর্তমানে চরম অগ্নি ও কাঠামোগত ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভবনের বাসিন্দারা।