London ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

“বেতন নয়, কেবল আশ্বাস” কালিয়াকৈরে জেনারেল ফার্মার শ্রমিকদের ক্ষোভে উত্তাল সকাল

শাকিল হোসেন,গাজীপুর কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

সোমবারের সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সূর্য ওঠার আগেই মৌচাকের সুরিচালা এলাকায় জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফটকের সামনে জমে যায় উত্তপ্ত ভিড়। মুখে স্লোগান, হাতে প্ল্যাকার্ড “বেতন দাও, বাঁচার সুযোগ দাও।”

তিন মাসের বেতন, আর এক বছরের ওভারটাইম, এটাই ছিল দাবির মূল কথা। তবে এর পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের আগুন যেন অনেক পুরনো।
কারখানার ভেতর সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় কর্মবিরতি। মেশিনের শব্দ থেমে যায়, তার জায়গায় ভেসে আসে প্রতিবাদের সুর।

পুলিশ আসে, তবু কথা হয় না।
শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও শ্রমিকদের মুখ বন্ধ হয়নি। তারা জানায়, কথা আর আশ্বাসে পেট ভরে না, বাজারে চাল-ডাল কেনা যায় না।

“তিন মাস ধরে বেতন পাইনি, দোকানদার বাকি দিচ্ছে না, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলছে,” বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক, চোখে কান্না আর ক্ষোভ মিশে।
আরেকজন যোগ করলেন, “স্টাফদেরও ৯ মাসের বেতন বকেয়া। এত বড় কোম্পানি হয়ে কেন এই অবস্থা!”

কারখানার অ্যাডমিন অফিসার মোশাররফ হোসেন অবশ্য আশ্বাসের সুরেই বললেন, “২২ অক্টোবরের মধ্যেই সব বকেয়া পরিশোধ হবে। ফান্ডে এখন টাকার ঘাটতি আছে।”
কিন্তু শ্রমিকদের উত্তরে হতাশার সুর— “২২ তারিখে পেট খালি থাকবে, আজ কী খাব?”

কাশিমপুর শিল্প পুলিশের ওসি আকবর হোসেন জানান, “সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করছেন। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু তারা আপাতত শুনতে রাজি নয়।”

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফার্মার ফটকের সামনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মেশিনের নীরবতা যেন বলছে— যেখানে বেতন থেমে যায়, সেখানেই কাজ থেমে যায়।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
৫৮
Translate »

“বেতন নয়, কেবল আশ্বাস” কালিয়াকৈরে জেনারেল ফার্মার শ্রমিকদের ক্ষোভে উত্তাল সকাল

আপডেট : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

সোমবারের সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সূর্য ওঠার আগেই মৌচাকের সুরিচালা এলাকায় জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফটকের সামনে জমে যায় উত্তপ্ত ভিড়। মুখে স্লোগান, হাতে প্ল্যাকার্ড “বেতন দাও, বাঁচার সুযোগ দাও।”

তিন মাসের বেতন, আর এক বছরের ওভারটাইম, এটাই ছিল দাবির মূল কথা। তবে এর পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের আগুন যেন অনেক পুরনো।
কারখানার ভেতর সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় কর্মবিরতি। মেশিনের শব্দ থেমে যায়, তার জায়গায় ভেসে আসে প্রতিবাদের সুর।

পুলিশ আসে, তবু কথা হয় না।
শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও শ্রমিকদের মুখ বন্ধ হয়নি। তারা জানায়, কথা আর আশ্বাসে পেট ভরে না, বাজারে চাল-ডাল কেনা যায় না।

“তিন মাস ধরে বেতন পাইনি, দোকানদার বাকি দিচ্ছে না, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলছে,” বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক, চোখে কান্না আর ক্ষোভ মিশে।
আরেকজন যোগ করলেন, “স্টাফদেরও ৯ মাসের বেতন বকেয়া। এত বড় কোম্পানি হয়ে কেন এই অবস্থা!”

কারখানার অ্যাডমিন অফিসার মোশাররফ হোসেন অবশ্য আশ্বাসের সুরেই বললেন, “২২ অক্টোবরের মধ্যেই সব বকেয়া পরিশোধ হবে। ফান্ডে এখন টাকার ঘাটতি আছে।”
কিন্তু শ্রমিকদের উত্তরে হতাশার সুর— “২২ তারিখে পেট খালি থাকবে, আজ কী খাব?”

কাশিমপুর শিল্প পুলিশের ওসি আকবর হোসেন জানান, “সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করছেন। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু তারা আপাতত শুনতে রাজি নয়।”

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফার্মার ফটকের সামনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মেশিনের নীরবতা যেন বলছে— যেখানে বেতন থেমে যায়, সেখানেই কাজ থেমে যায়।