রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে টপসয়েল কেটে পুকুর ও দীঘি খননের ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এতে স্থানীয় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা–এর নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
প্রথম দফায় দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গণিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিলে অবৈধভাবে কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে টপসয়েল কাটার অপরাধে গণিপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত ২টি ভেকু মেশিন ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়।
গণিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিলে ভেকু মেশিন নিয়ে যেতে বাধা দিলে এক কৃষকের সরিষা ক্ষেত নষ্ট করে জোরপূর্বক মেশিন সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় দফায় বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের নিমাই বিল এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সেখানে কাউকে হাতেনাতে না পাওয়া গেলেও অবৈধভাবে কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত ২টি ভেকু মেশিন স্পটে অকেজো করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর ও দীঘি খনন করে আসছিল। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছিল। অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন।
এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, “কৃষিজমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবৈধভাবে টপসয়েল কেটে পুকুর খনন করে ফসলি জমি ধ্বংস করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকের জমি রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।