London ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালিয়াকৈরে মাদ্রাসার ছাদ পড়ে শিক্ষার্থীর নিহত রাজশাহীতে বিজিবি ১ এর শীত বস্ত্র বিতরণ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, জানতে চেয়ে চিঠি ইসির কাছে ‘‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’’ প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য দন্ডিত বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন পটুয়াখালী ০৩ আসনের এমপি প্রার্থী জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় রাজশাহীতে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবিএমএস রেজিস্ট্রেশন ছাড়া নির্বাচনী ডিউটি নয় আনসার মহাপরিচালক রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৯ জন বাঘায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত পটুয়াখালী শহরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, জানতে চেয়ে চিঠি ইসির কাছে ‘‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’’

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক, সি‌লেট

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে সংবিধান কী বলে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন।

“দ্বৈত নাগরিকত্বের সঙ্গে আইন প্রণয়ন সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকত,” বলা হয় চিঠিতে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লেখা একটি চিঠিতে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে লন্ডনভিত্তিক সামাজিক সংগঠনটি।

চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা প্রার্থনা করছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম।”

৬ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার চিঠি’র নিচে সংগঠনটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী মনোয়ার হোসেন এর স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এটি প্রণীত হয় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে।

“ওই সময় সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয় একটি উদ্বেগ থেকে। এর লক্ষ্য ছিল, যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা যেন সংসদের সদস্য হতে না পারে। ওই সময় বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না।”

চিঠিতে লন্ডনভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, “১৯৭২ সালে ডিসেম্বরে সংবিধান অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২’ জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই সংবিধান অনুমোদনের পরপরই নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

“বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (দ্বিতীয়) আদেশ, ১৯৭৮ প্রবর্তিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব নিলেই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। সরকারকে বৈধ দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয় তাতে।”

চিঠিতে বলা হয়, “এই ক্ষমতাবলে জারি হওয়া এসআরওর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনিভাবে স্বীকৃত বৈধ দ্বৈত নাগরিক, যাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে।

“২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৬(২ক) ধারা সংযোজন করা হয়। যেখানে এটা নিশ্চিত করা হয় যে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাস্তবে পরিত্যাগ করা হয়েছে। যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়নি, সেখানে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।”

সংগঠনটি বলেছে, “কখনো কখনো যুক্তি দেওয়া হয় যে, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা। এ কারণে তাদের সংসদ সদস্য হওয়া উচিত নয়। তবে এ যুক্তি সাংবিধানিক বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।”

বাংলাদেশের সংবিধান দ্বৈত নাগরিকদের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকক্বের সঙ্গে আইন প্রণয়নের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।”

সংগঠনটি বলেছে, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে অন্যত্র স্থানান্তর করেননি। সুতরাং তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অস্বীকার করা সাংবিধানিক অভিপ্রায়, প্রচলিত আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

“অতএব আমরা বিনীতভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, যেন এটা নিশ্চিত হয় যে, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০৪:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
Translate »

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, জানতে চেয়ে চিঠি ইসির কাছে ‘‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’’

আপডেট : ০৪:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে সংবিধান কী বলে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন।

“দ্বৈত নাগরিকত্বের সঙ্গে আইন প্রণয়ন সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকত,” বলা হয় চিঠিতে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লেখা একটি চিঠিতে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে লন্ডনভিত্তিক সামাজিক সংগঠনটি।

চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা প্রার্থনা করছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম।”

৬ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার চিঠি’র নিচে সংগঠনটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী মনোয়ার হোসেন এর স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এটি প্রণীত হয় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে।

“ওই সময় সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয় একটি উদ্বেগ থেকে। এর লক্ষ্য ছিল, যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা যেন সংসদের সদস্য হতে না পারে। ওই সময় বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না।”

চিঠিতে লন্ডনভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, “১৯৭২ সালে ডিসেম্বরে সংবিধান অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২’ জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই সংবিধান অনুমোদনের পরপরই নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

“বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (দ্বিতীয়) আদেশ, ১৯৭৮ প্রবর্তিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব নিলেই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। সরকারকে বৈধ দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয় তাতে।”

চিঠিতে বলা হয়, “এই ক্ষমতাবলে জারি হওয়া এসআরওর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনিভাবে স্বীকৃত বৈধ দ্বৈত নাগরিক, যাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে।

“২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৬(২ক) ধারা সংযোজন করা হয়। যেখানে এটা নিশ্চিত করা হয় যে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাস্তবে পরিত্যাগ করা হয়েছে। যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়নি, সেখানে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।”

সংগঠনটি বলেছে, “কখনো কখনো যুক্তি দেওয়া হয় যে, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা। এ কারণে তাদের সংসদ সদস্য হওয়া উচিত নয়। তবে এ যুক্তি সাংবিধানিক বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।”

বাংলাদেশের সংবিধান দ্বৈত নাগরিকদের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকক্বের সঙ্গে আইন প্রণয়নের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।”

সংগঠনটি বলেছে, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে অন্যত্র স্থানান্তর করেননি। সুতরাং তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অস্বীকার করা সাংবিধানিক অভিপ্রায়, প্রচলিত আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

“অতএব আমরা বিনীতভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, যেন এটা নিশ্চিত হয় যে, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।”