London ০৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
উল্লাপাড়ায় শিশু তামীম হত্যা মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দরিদ্র ছাত্রকে বই কিনে দিলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা: সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায় রাজশাহীতে টিসিবির নিত্য পন্য বিক্রি শুরু সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নিরঙ্কুশ বিজয় রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার সিরাজগঞ্জে র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৯৬০ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ গ্রেফতার ১ আওয়ামীলীগ এদেশে আর কখনও নির্বাচন করতে পারবে না -আলতাফ হোসেন চৌধুরী সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সমর্থনে লিফলেট বিতরণে ব্যস্ত সময় কাটছে নেতাকর্মীদের

বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা: সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়

মুনীর চৌধুরী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়।
নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলেও বিরোধী জোট সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী শিশির মনির সামাজিক মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। তারা বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব , যিনি এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মনোনীত একটি দল, যারা সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ করে।
এর মূল উদ্দেশ্য:
সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখা
বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা
ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি ব্রিটিশ সংসদীয় ঐতিহ্য থেকে এসেছে এবং আজ বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে প্রচলিত।
— আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
— শক্তিশালী বিরোধী নজরদারি ব্যবস্থা
— প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়া মন্ত্রী
— কার্যকর বিকল্প নীতি কাঠামো
অন্যদিকে -এ আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা না থাকলেও বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে থাকে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ছায়া মন্ত্রিসভা:
✔ সরকারি সিদ্ধান্তের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করে
✔ সংসদীয় বিতর্ককে সমৃদ্ধ করে
✔ বিকল্প সরকার হিসেবে প্রস্তুতি গড়ে তোলে
✔ রাজনৈতিক জবাবদিহিতা বাড়ায়
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
অভ্যন্তরীণ দলীয় বিভক্তি কার্যকারিতা কমাতে পারে
ঘন ঘন রদবদল অস্থিরতা তৈরি করতে পারে
কখনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেখা যায়
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০১:০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Translate »

বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা: সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়

আপডেট : ০১:০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়।
নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলেও বিরোধী জোট সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী শিশির মনির সামাজিক মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। তারা বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব , যিনি এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মনোনীত একটি দল, যারা সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল একজন করে ছায়া মন্ত্রী নিয়োগ করে।
এর মূল উদ্দেশ্য:
সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখা
বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা
ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাটি ব্রিটিশ সংসদীয় ঐতিহ্য থেকে এসেছে এবং আজ বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে প্রচলিত।
— আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
— শক্তিশালী বিরোধী নজরদারি ব্যবস্থা
— প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়া মন্ত্রী
— কার্যকর বিকল্প নীতি কাঠামো
অন্যদিকে -এ আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা না থাকলেও বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে থাকে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ছায়া মন্ত্রিসভা:
✔ সরকারি সিদ্ধান্তের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করে
✔ সংসদীয় বিতর্ককে সমৃদ্ধ করে
✔ বিকল্প সরকার হিসেবে প্রস্তুতি গড়ে তোলে
✔ রাজনৈতিক জবাবদিহিতা বাড়ায়
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
অভ্যন্তরীণ দলীয় বিভক্তি কার্যকারিতা কমাতে পারে
ঘন ঘন রদবদল অস্থিরতা তৈরি করতে পারে
কখনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেখা যায়
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে।