প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য দন্ডিত বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন পটুয়াখালী ০৩ আসনের এমপি প্রার্থী জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড়

বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে গলাচিপা – দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী ০৩ আসন। এ অঞ্চলের ৮০ ভাগ লোক কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে । এ আসনের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক, শ্রমিক সহ স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, বিগত আমলে এ আসনে মরহুম শাহজাহান খান ব্যতীত যারাই সংসদ সদস্য ছিলো তারা জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করেনি। এর আগে সংসদ সদস্য যারা ছিলো তাদের সাথে জনগণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো কারণ এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি ও এস এম শাহজাদা সাজু উভয়ই ছিলো উড়ে এসে জুড়ে বসার মত। কেউই এখানের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলো না। কেউই এ আসনের উন্নয়নের জন্য কাজ করেনি বললেই চলে। যার প্রমাণ গলাচিপা -দশমিনা উপজেলার পরতে পরতে পাওয়া যায়। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, জনজীবনের নিম্নমান যে এ দুই উপজেলার মানুষের নিত্যসঙ্গী। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার অনেকটা জোর করেই বিনাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে আমাদের উপর চাপিয়ে দিত যাদের সাথে আমরা বিভিন্ন সমস্যার কথা বললেও এরা বিন্দুমাত্র কর্নপাত করেন নি। বার বার আমরা আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছি । বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন আমাদের এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে আমাদের সাথে কথা বলেছিলো এমপি হওয়ার জন্য ভোট চাইছিলো কিন্তু ইনি প্রশ্নফাঁস চক্রের মত জঘন্য কাজ এর সাথে জড়িত এটা আমরা প্রথম শুনলাম এত বড় দুর্নীতিবাজ লোক আমরা ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচন করবো হতেই পারে না। অবিলম্বে এই প্রতারকের মনোনয়ন বাতিলের জন্য জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে দাবি জানাই। এরকম লোক এমপি প্রার্থী হলে দেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হবে। আমাদের উপজেলায় ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, রাহাজানি বেড়ে যাবে আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। বিষয়টি জানাজানির পর পটুয়াখালী জেলাজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়। আলোচনা সমালোচনা চলছে প্রতিটা চায়ের দোকানে, শহরে, পাড়া মহল্লায় । গলাচিপা সদরের বাসিন্দা এক শিক্ষক বলেন, পুরো শিক্ষা শিক্ষা ব্যবস্থায় খুত ঢোকানোর চেষ্টাকারী প্রতারক হাসান মামুন এমপি প্রার্থী হয়েছে এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। হাসান মামুনের এক কর্মী জানান, আমরা তাকে ফেরেশতার মত জানতাম বিশ্বাস করতাম কিন্তু সে শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নফাঁস এর মত নিকৃষ্ট কাজে যুক্ত ছিলো শোনা মাত্র আমার পরিবার সহ প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনকে জানিয়ে দিয়েছি তার মত দুর্নীতিবাজ লোককে ভোট না দিতে। দশমিনা উপজেলার এক কৃষক জানান, এইরহম দুর্নীতিবাজ হাসান মামুন আগে জানতাম না আমরা কৃষকরা তাকে বয়কট করলাম। স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মীর দেয়া তথ্য মতে, হাসান মামুন উক্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে এক মাস আগে থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতেছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা উচিত তার এত টাকার উৎস কোথায়।
হাসান মামুন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন । পটুয়াখালী ০৩ আসনে বিএনপি গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর কে মনোনীত করেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কারনে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। সর্বশেষ এক নির্বাচনী সভায় প্রশাসনের বড় বড় লোক তার বাসায় কাজ করেন বলে দাবি করেন এই প্রার্থী যার কার প্রশাসনের লোকজন এর ভিতর ক্ষোভ বিরাজ করছে এটাকে অহংকার হিসেবে অভিহিত করে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় ভোটাররা তাদের ভাষ্যমতে সে প্রশাসনের লোকজনকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে এমপি হলে আমাদের সে মানুষ মনে করবে কিনা সন্দেহ। গনমাধ্যম সুত্র মতে, গত ১৫ জুন ২০১৯ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা এবং ঢাকার শান্তিনগর থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছিলো র্যাব-৮। এর একজন হাসান মামুন কে সেদিন রাত পৌঁনে ১১টায় ঢাকার শান্তিনগর থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদি গ্রামের মো. হাসান মামুনকে ( বর্তমান পটুয়াখালী ০৩ গলাচিপা – দশমিনা আসনের বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী) কে আটক করেন তারা । গ্রেফতার এর পর র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বর্তমান এমপি প্রার্থী হাসান মামুন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সত্যতা স্বীকার করেছিলো ।
১৬ জুন ২০১৯ রবিবার রাতে বরিশাল নগরীর রূপতলীর র্যাব-৮ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছিলো । উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা সাধারণত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (Representation of the People Order – RPO) এবং সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন, বিশেষ করে যদি তাদের কোনো ফৌজদারি মামলায় সাজা হয় বা নৈতিক স্খলনের কারণে আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হন, যা প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধানের (অনুচ্ছেদ ৬৬) আওতায় পড়ে ।





















