London ১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
উল্লাপাড়ায় শিশু তামীম হত্যা মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দরিদ্র ছাত্রকে বই কিনে দিলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা: সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায় রাজশাহীতে টিসিবির নিত্য পন্য বিক্রি শুরু সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নিরঙ্কুশ বিজয় রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার সিরাজগঞ্জে র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৯৬০ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ গ্রেফতার ১ আওয়ামীলীগ এদেশে আর কখনও নির্বাচন করতে পারবে না -আলতাফ হোসেন চৌধুরী সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সমর্থনে লিফলেট বিতরণে ব্যস্ত সময় কাটছে নেতাকর্মীদের

দরিদ্র ছাত্রকে বই কিনে দিলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড

মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল এক শিক্ষার্থীর জীবন। ঠিক সেই সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার স্বপ্ন পূরণের সারথি হলেন পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় অসহায় শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে দেন এসিল্যান্ড শিবু দাশ।

আবু বক্কর সিদ্দিক পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের দুদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এ সময় এসি (ল্যান্ড) শিবু দাশ বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেমে না যায়—এটাই আমার বিশ্বাস। আবু বক্কর সিদ্দিকের মতো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা চরম কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব৷ উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সকলের এমন উদ্যােগের পাশে দাড়ানো উচিত৷ ”

তিনি আরও বলেন,“একজন শিক্ষার্থী বই কিনতে না পারার কারণে যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—সমাজ ও দেশেরও ক্ষতি। আজ হয়তো সামান্য একটি সহযোগিতা, কিন্তু এর মাধ্যমেই একটি ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আমি মনে করি, প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তারই উচিত সুযোগের মধ্যে থেকে মানবিক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া।”

সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “বই কেনার টাকা না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভয়টা আমাকে প্রতিদিন তাড়া করছিল। পরিবার থেকেও তেমন সহযোগিতা পাওয়ার উপায় ছিল না। ঠিক তখন স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা আমার জন্য কল্পনার বাইরে ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহায়তা শুধু বই কেনার টাকা নয়, এটা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার শক্তি দিয়েছে। আমি এখন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন ভালো মানুষ ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হতে চাই, যেন ভবিষ্যতে আমিও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”

এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা আরও শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Translate »

দরিদ্র ছাত্রকে বই কিনে দিলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড

আপডেট : ০১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল এক শিক্ষার্থীর জীবন। ঠিক সেই সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার স্বপ্ন পূরণের সারথি হলেন পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় অসহায় শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে দেন এসিল্যান্ড শিবু দাশ।

আবু বক্কর সিদ্দিক পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের দুদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এ সময় এসি (ল্যান্ড) শিবু দাশ বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেমে না যায়—এটাই আমার বিশ্বাস। আবু বক্কর সিদ্দিকের মতো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা চরম কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব৷ উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সকলের এমন উদ্যােগের পাশে দাড়ানো উচিত৷ ”

তিনি আরও বলেন,“একজন শিক্ষার্থী বই কিনতে না পারার কারণে যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—সমাজ ও দেশেরও ক্ষতি। আজ হয়তো সামান্য একটি সহযোগিতা, কিন্তু এর মাধ্যমেই একটি ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আমি মনে করি, প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তারই উচিত সুযোগের মধ্যে থেকে মানবিক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া।”

সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “বই কেনার টাকা না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভয়টা আমাকে প্রতিদিন তাড়া করছিল। পরিবার থেকেও তেমন সহযোগিতা পাওয়ার উপায় ছিল না। ঠিক তখন স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা আমার জন্য কল্পনার বাইরে ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহায়তা শুধু বই কেনার টাকা নয়, এটা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার শক্তি দিয়েছে। আমি এখন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন ভালো মানুষ ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হতে চাই, যেন ভবিষ্যতে আমিও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”

এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা আরও শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখাবে।