উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক টার্গেটিংয়ের শিকার ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া: সাজানো ধর্ষণ মামলার নেপথ্যে বিস্ফোরক সত্য

রাজনীতির অঙ্গনে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কীভাবে ভয়াবহ অস্ত্রে পরিণত হতে পারে—তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আলোচিত ধর্ষণ মামলা।
মামলার বাদী নিজেই পরবর্তীতে এটিকে পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক টার্গেটিং বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ প্রত্যাহার, প্রকাশ্য দুঃখপ্রকাশ এবং সমঝোতার পর সামনে এসেছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, জোরপূর্বক চাপ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের একাধিক তথ্য।
ঘটনাপ্রবাহের কালানুক্রমিক বিবরণ
১৬ জানুয়ারি ২০২৬: ওয়ারী থানায় আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের।
পরবর্তী কয়েক দিন: রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ঘটনা।
পরবর্তী পর্যায়: বাদী শিরাজুম মুনিয়া কেকা প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং প্রকৃত ঘটনার স্বীকারোক্তি দেন।
বর্তমান অবস্থা: থানায় অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা/মিমাংসার তথ্য পাওয়া গেছে।
বাদীর স্বীকারোক্তি: ষড়যন্ত্রের দেয়াল ভাঙল
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাদী শিরাজুম মুনিয়া কেকা পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে—তাঁর সাবেক স্বামী প্রিন্স তাঁদের কন্যা পৃথিবীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক তাকে আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করেন। চরম মানসিক চাপ, ভয় এবং পারিবারিক সংকটের সুযোগ নিয়ে এই অভিযোগ দায়ের করানো হয়। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের সংঘবদ্ধ চক্রান্তের উল্লেখও পাওয়া গেছে।
পারিবারিক কলহ থেকে রাজনৈতিক ‘টার্গেট কিল’ কৌশল
বিশ্বস্ত সূত্রমতে, কেকা ও তাঁর সাবেক স্বামীর দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহই এ ঘটনার মূল ভিত্তি। পারিবারিকভাবে আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার সঙ্গে পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সন্দেহ, আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকে তাকে টার্গেট করা হয়। ব্যক্তিগত বিরোধকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং দলীয় অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
ভিডিও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কেকার সাবেক স্বামী প্রিন্স একটি লিখিত ম্যাসেজ আব্দুর রহিমের সামনে উপস্থাপন করেন। রহিম অনিচ্ছাকৃতভাবে তা পড়তে শুরু করলে গোপনে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও কেটে-ছেঁটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ ভিডিও বিশ্লেষণে এটি পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন এই মামলা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কৌশল হিসেবে এ ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে বিএনপি-বিরোধী শক্তি এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত কিছু অংশ এতে জড়িত। এমনকি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির মাত্রা
দীর্ঘদিন ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে থাকা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া এ ঘটনায়—
মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন
সামাজিকভাবে সম্মানহানির শিকার হন
বিএনপির সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়—বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্ষতির দৃষ্টান্ত।
মামলার সারসংক্ষেপ
অভিযোগ দায়ের: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
থানা: ওয়ারী
বাদী: শিরাজুম মুনিয়া কেকা
অভিযুক্ত: আব্দুর রহিম ভূঁইয়া
বর্তমান অবস্থা: বাদীর দুঃখপ্রকাশ, অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি এবং মিমাংসা
এখনো অমীমাংসিত প্রশ্নসমূহ
এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের নেপথ্যে কারা সক্রিয় ছিল?
পারিবারিক বিরোধ কীভাবে রাজনৈতিক অস্ত্রে রূপ নিল?
যাচাই-বাছাই ছাড়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কতটা দায়িত্বশীল ছিল?
এ ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, পারিবারিক জটিলতা ও রাজনৈতিক স্বার্থ একত্রিত হলে মিথ্যা অভিযোগও ভয়াবহ অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়িত্বশীল পুনর্মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে এমন সাজানো অভিযোগ রাজনৈতিক অপপ্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।




















