London ০৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
কালকিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষনা! কালকিনিতে পালিত বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি: CAP–Expert অর্জন করলেন কসবার কৃতি সন্তান ড. সফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ কালকিনি উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষনা শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত বাগমারায় পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনী প্রধান নানিয়ারচরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত চট্টগ্রামে চ্যানেল এস-এর গৌরবময় বর্ষপূর্তি উদযাপন গুণিজন সম্মাননা ও মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান

রাজশাহীতে চায়না জাল নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন

মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘চায়না দুয়ারি’ জাল নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। বরেন্দ্র অঞ্চলের নদ–নদী, খাল–বিল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সবুজ সংহতি ও উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে চায়না দুয়ারি জাল নিষিদ্ধের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবি–সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলেরা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সরঞ্জাম—খোরা জাল, পলো, চাঁই, খলই, বিনকি ইত্যাদি হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘চায়না দুয়ারি জাল বন্ধ করো, দেশীয় মাছ রক্ষা করো।’

কর্মসূচিতে বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলেদের পর্যবেক্ষণভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় সব নদ–নদী ও খাল–বিলে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। ছোট ফাঁসের কারণে পোনা মাছও এতে ধরা পড়ে মারা যাচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। এ কারণে মাছের পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদ, পাখি, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ পুরো জলজ বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে।

গোকুল-মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের বিলকুমারী বিলে আগে কত জাতের মাছ ছিল। এখন আর কিছুই নেই। চায়না জালের কারণে আমরা মৌসুমেও মাছ পাই না।’ বিলকুমারী বিলপারের আরেক জেলে আফাজ উদ্দিন কবিরাজ বিলের হারিয়ে যাওয়া মাছের নাম স্মরণ করে এই জাল বন্ধের দাবি জানান।

সবুজ সংহতি রাজশাহীর আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। অবিলম্বে চায়না দুয়ারি জালের আমদানি, তৈরি ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এর কারখানাগুলোও বন্ধের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পবা উপজেলার নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায়ের সাধারণ সম্পাদক আবু সামা, জেলে রঘুনাথ হালদার, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস, জুলাই ৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী সহ অন্যান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
আপডেট : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
৩৫
Translate »

রাজশাহীতে চায়না জাল নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘চায়না দুয়ারি’ জাল নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। বরেন্দ্র অঞ্চলের নদ–নদী, খাল–বিল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সবুজ সংহতি ও উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে চায়না দুয়ারি জাল নিষিদ্ধের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবি–সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলেরা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সরঞ্জাম—খোরা জাল, পলো, চাঁই, খলই, বিনকি ইত্যাদি হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘চায়না দুয়ারি জাল বন্ধ করো, দেশীয় মাছ রক্ষা করো।’

কর্মসূচিতে বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলেদের পর্যবেক্ষণভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় সব নদ–নদী ও খাল–বিলে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। ছোট ফাঁসের কারণে পোনা মাছও এতে ধরা পড়ে মারা যাচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। এ কারণে মাছের পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদ, পাখি, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ পুরো জলজ বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে।

গোকুল-মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের বিলকুমারী বিলে আগে কত জাতের মাছ ছিল। এখন আর কিছুই নেই। চায়না জালের কারণে আমরা মৌসুমেও মাছ পাই না।’ বিলকুমারী বিলপারের আরেক জেলে আফাজ উদ্দিন কবিরাজ বিলের হারিয়ে যাওয়া মাছের নাম স্মরণ করে এই জাল বন্ধের দাবি জানান।

সবুজ সংহতি রাজশাহীর আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। অবিলম্বে চায়না দুয়ারি জালের আমদানি, তৈরি ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এর কারখানাগুলোও বন্ধের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পবা উপজেলার নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায়ের সাধারণ সম্পাদক আবু সামা, জেলে রঘুনাথ হালদার, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস, জুলাই ৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী সহ অন্যান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।