আ.লীগের গড় ভাঙতে প্রস্তুত জামায়াত: ‘রাইড ফর জাস্টিস’-এ শক্তি প্রদর্শন

ফরিদপুর-১ আসন—আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালি। বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের অটুট ভোটের গড় হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরো বদলে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন। ফলে দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিটি এখন কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য উন্মুক্ত মাঠ। এই শূন্যতায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠ প্রাঙ্গণ সরগরম হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই এক হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে জামায়াত শুরু করে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোডাউন—‘রাইড ফর জাস্টিস’ (Ride for Justice)। সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ মিছিল দেখে এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
শোডাউনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলটির মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা। তিনি বলেন,
‘২০২৪ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনীতির সূচনা হয়েছে। আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ পাই, মাদক আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করব। মাদকাসক্ত যুবকদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনব। ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
শোডাউনটি কামারগ্রাম থেকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার হয়ে বোয়ালমারী উপজেলা পেরিয়ে মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভাও করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
দীর্ঘদিন আ.লীগের দুর্গ, এখন নতুন সমীকরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১–পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর-১ আসনের প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। ব্যতিক্রম ১৯৯৬ সালের একক নির্বাচন—সেবার আওয়ামী লীগ ভোটে অংশ নেয়নি। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও তাঁর মেয়াদ ছিল মাত্র ১৩ দিন।
একক লড়াইয়ে প্রথমবার জামায়াত, বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি
এই আসনে এবারই প্রথম এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটি মাঠে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি।
জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের দাবি—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাদের তৃণমূলের বহু সাধারণ ভোটার এখন রাজনৈতিকভাবে দিশেহারা। অতীতে বিএনপির মামলা–হামলা ও রাজনৈতিক বৈরিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে দলটির ধারণা।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন,
‘মানুষ এখন নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছি। সাধারণ ভোটাররা এবার নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’






















